Saturday, November 7, 2015

করিম শাহের পানপাতার বাঁশি

কলাপাড়া (পটুয়াখালী): লালন প্রেমী রেজাউল করিম শাহের সুরে বিমোহিত কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা। সৈকতে চা পান বিক্রির ফাঁকে পানপাতা দিয়ে লালন সাইজির গানে সুর তোলেন তিনি। পর্যটকরা সাগরের উম্মাদনার পাশাপাশি পাতার সুরে বিনোদনের এক নতুন মাত্রা খুঁজে পেয়েছেন। 
তার সুরে মুগ্ধ হয়ে স্থানীয় নানা পেশাজীবী মানুষ রুটিন করে তার চায়ের দোকানে ভিড় জমায়। সংগীতপ্রেমী এ মানুষটি বাগেরহাট জেলার মংলা থানার গোয়ালীর মাঠ এলাকা থেকে বছর খানেক আগে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসেন। সদালাপী ওই অভাবি মানুষটি স্থানীয় সংগীতপ্রেমীদের নজরে আসলে অস্থায়ীভাবে একটি পরিত্যক্ত ঘরে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়। রুটি রুজির জন্য তিনি কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় চা-পানের দোকান দেন। আর দোকানে বসে লালনের গানের পাশাপাশি নিজের লেখা গানেও তিনি পানপাতায় ব্যতিক্রমী সুর তুলে পর্যটকদের মাতিয়ে রাখেন। 
স্থানীয়রা জানায়, গান, গল্প ও আড্ডার ফাঁকে চলে বিপননের কাজ। বে-হিসেবি মানুষটি দর কষাকষি না করেই ক্রেতারা যা পরিশোধ করে তাতেই সন্তুষ্ট থাকেন। প্রায়ই ভুলে যান আপ্যায়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা নিতে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তার বিকিকিনি। এক সময় খুলনা বেতারের নিয়মিত গান পরিবেশন করলেও দূরত্ব ও খরচের জন্য এখন যাওয়া হয় না তার। অনেকে আবার চা-পান ও সিগারেট খাবার ছলে অনুরোধ করে বসেন একটা গান শুনানোর জন্য। 
সম্প্রতি ঢেউ নামে একটি নাটকে তার অভিনয়সহ গানের চিত্র ধারণ করেছে একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। যা মাছরাঙ্গা টেলিভিশনে ধারাবাহিক সম্প্রচার করছে বলে স্থানীয়রা জানান। এছাড়া কুয়াকাটায় কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর পেলেই তিনি সেখানে ছুটে যান। নিজের লেখা গান ও মুখে পান পাতার সুর দিয়ে মাতিয়ে রাখেন দর্শকদের। এসব কারণে অল্প সময়ে তিনি এখন সব মানুষের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছে। 
লালনপ্রেমী রেজাউল করিম শাহ্ বলেন, ‘অনেকটা অভাবের তাড়নায় কুয়াকাটায় আসা। লালন সাইজিকে অন্তরে লালন করার চেষ্টা করছি। মানুষকে সেবা ও বিনোদন দিতে পারলেই আমি স্বার্থক।’ 
বয়সের ভারে নূহ্যমান ওই ব্যক্তিটির সামান্য আয়ে বড় ছেলে বাগেরহাট পিসি কলেজে অর্নাসে ও ছোট ছেলে বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়াশুনা করাছে। তার একমাত্র মেয়েকে অনেক আগেই বিবাহ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী এএম আলামীনসহ ৪ বন্ধু জানান, কুয়াকাটা সৈকতে বেড়াতে এসে প্রাকৃতিক সৌন্দের্যের পাশাপাশি রেজাউল করিম শাহের পাতার সুর শুনে তারা বিমোহিত হয়েছেন। 
কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও বিচ রোটারি ক্লাবের সভাপতি সংগীত শিক্ষক শহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, ‘প্রতিদিনই রুটিন করে তার দোকানে চা ও পাতার সুর শুনতে যাই। সত্যিই অসাধারণ ও অভিন্ন প্রতিভা রয়েছে রেজাউল করিম শাহের। 
টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সিনিয়র এএসপি মীর ফসিউল রহমান বলেন, ‘এমন লালনপ্রেমী মানুষটির গুণগান টহল পুলিশদের কাছে প্রথমে শুনেছি। পরে অসংখ্যবার তার দোকানে গিয়ে চা বিস্কুট খেয়ে গান ও পান পাতার সুর শুনে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি।’

No comments:

Post a Comment